পুরাতন মালদায় ছট পুজোর শামিল মুসলিম পরিবার - The News Lion

পুরাতন মালদায় ছট পুজোর শামিল মুসলিম পরিবার




দি নিউজ লায়ন ;   শ্বশুরবাড়ির পুরনো নিয়ম মেনেই ছট পুজোয় সামিল হয় মুসলিম সম্প্রদায়ের কয়েকটি পরিবার। পুরাতন মালদার চার নম্বর ওয়ার্ডের এলাকায় রয়েছে বেশ কয়েকটি মুসলিম সম্প্রদায়ের ঘর। আর সেখানে প্রায় সাতটি পরিবারের মহিলা সদস্যরা শ্বশুরবাড়ির পূর্বপুরুষদের নিয়ম মেনেই হিন্দুদের সাথে ছট পুজোয় সামিল হন। যদিও এই নদীর জলে নেমে সূর্য দেবতার আরাধনা করার প্রথা রয়েছে। কিন্তু সবরকম বিধি মানলেও নদীতে নামেন না ওইসব পরিবারের মুসলিম মহিলা সদস্যরা। ছট পুজোর উৎসবকে ঘিরে পুরাতন মালদায় এ এক সম্প্রীতির অনন্য নজির গড়ে উঠেছে।


 সম্প্রীতির এই নজিরকে ঘিরে সাধারণ মানুষও সাধুবাদ জানিয়েছেন। শুক্রবার বিকেলে ছিল ছট পূজা উৎসব। এই পুজো শনিবার ভোরে সূর্যোদয় পর্যন্ত পালন করে থাকেন ভক্তরা। সেই পূজো পুরাতন মালদা শুধু নয় , জেলাজুড়ে ধুমধাম করে পালিত হয়েছে। ছট পূজাকে ঘিরে সর্বত্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে জেলা পুলিশ , প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট পুরসভা ও পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ। 


এদিন ছট পূজা অন্যান্য ভক্তদের সঙ্গে তুঁতবাড়ি এলাকার মুসলিম সম্প্রদায়ের কয়েকটি পরিবার সামিল হয়ে নিয়ম নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন। ডালি এবং কুলোতে ফল সাজিয়ে সূর্যদেবের উদ্দেশ্যে অর্পণ করা হয়। পাশাপাশি তিনদিন ধরে যে নিরামিষ আহার পালন করতে হয়। তারও নিয়ম-আচার নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে থাকেন ওই এলাকার কয়েকটি মুসলিম সম্প্রদায়ের পরিবারের মহিলারা। 


তাঁদের বক্তব্য, পরিবারের মঙ্গল কামনায় এই পুজোয় তারা সমিল হয়েছেন। বিগত দিনে ছট পূজা সামিল না হয়ে পরিবারের চরম ক্ষতি হয়েছিল। তাই পুনরায় এই পুজো করে তারা পরিবারের সুখ শান্তির কামনা করে চলেছেন।


এদিন ছট পূজার শামিল হওয়া শাহানারা বিবি, রুবিনা বেওয়া বলেন, আমাদের  বিয়ে হয়েছে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ বছর। শ্বশুর বাড়িতে আসার পর থেকেই এই পুজোয় তারা সামিল হয়েছেন। ছট পূজার ফলে তাদের পরিবারের সুখ শান্তি বজায় রয়েছে। হাতে হাতে ফলও পেয়েছেন অনেকেই। কিন্তু একসময় এই পুজোয় সামিল না হয়ে পরিবারের ক্ষতি হয়েছিল। তাই তারা শশুড়বাড়ির নিয়ম মেনে ছট পূজা করে আসছেন। সংশ্লিষ্ট এলাকার এক যাদব পরিবারের সঙ্গে সামিল হয়ে তারা এই পুজো করে থাকেন। 


সেই যাদব পরিবারের মূলত এলাকার মুসলিম সম্প্রদায়ের কয়েকটি ঘরের মহিলারা পুজোর রীতি মানার  জন্য সামিল হন। তবে তারা নদীতে নামেন না। তুতবাড়ি এলাকার যাদব পরিবারের এক সদস্য সুলেখা যাদব বলেন, সবকিছুর ওপরেই হচ্ছে বিশ্বাস এবং ভক্তি। এলাকার কয়েকটি মুসলিম পরিবার আমাদের সঙ্গে ছট পুজোর সামিল হন। 


প্রতিবছর তারা ছট পূজায় ঠাকুরের জন্য ফল ও প্রসাদ ডালি ও কুলোতে সাজিয়ে দেন। এরপর তারা আমাদের সঙ্গে স্থানীয় এলাকার নদীতেও যান এবং পুজো দাঁড়িয়ে দেখেন। এভাবেই চলে আসছে ছট পুজোর রীতি। এই পুজোর মাধ্যমে সকলের মঙ্গল কামনা করা হয়ে থাকে। 

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.